স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম মন্ত্রীসভায় নোয়াখালী জেলা থেকে কারও স্থান হয়নি। এ নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত নতুন মন্ত্রীসভা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবে বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস মিয়া জানান নোয়াখালীর মাটি বেগম জিয়ার ঘাঁটি নোয়াখালী জেলা য় তারেক রহমানের নানার বাড়ি সে হিসেবে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার যোগ্য নোয়াখালী পাঁচটি এমপির ভিতরে। শাহজাহান ভাই দলের জন্য পুলিশি নির্যাতনের শিকার এবং ৫ আগষ্টের আগে উনার ৭ বছরের সাজা আটক করে পুলিশ নিয়ে যায় জেলখানায়। এবং খোকন ভাইকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। বুলু ভাইর উপর হামলা চালায় এবং কি উনার ছেলের উপর গুলি চালায় আজ সেই ছেলেটি অঙ্গোত্ত্ব বরণ করছেন। ফারুক ভাইকে পুলিশ প্রকাশ্যে মারধর করে রক্তাক্ত করে। তাই প্রিয় লিডার তারেক রহমানের কাছে আবেদন নোয়াখালীকে অসম্মানিত করবেন না। নোয়াখালী এ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব দেওয়ার জন্য আবেদন।
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত সব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নোয়াখালীর কেউ না কেউ প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও এ জেলার অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার সময় নোয়াখালীর কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সে হিসেবে আমরা আশা করেছিলাম, এবার নোয়াখালীর পাঁচটি আসনে বিপুল ভোটে ধানের শীষের বিজয়ের পর এ জেলার পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন। দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন নোয়াখালীবাসীর এ প্রত্যাশা পূরণ করেন।’
ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, ‘নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে চমৎকার মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, যাদের সততা ও নিষ্ঠা সম্পর্কে দেশবাসী অবগত। আমরা আশাবাদী, তাদের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। তবে মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত হয়েছি।’
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নোয়াখালী জেলা ১৯৯১ সাল থেকে বরাবরই সব আসন দিয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলে ৬টির মধ্যে ৫টি পেয়েছিলাম। এবারও হাতিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ৬টিই পেতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, নোয়াখালী সদর আসন থেকে কখনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও অবিচার করা হলো।’
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বাসিন্দা ও লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলেও মন্ত্রিত্ব পায়নি নোয়াখালী। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, জয়নাল আবেদীন ফারুক ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনরা। তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাননি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন সাদা পাঞ্জাবি পরা ধনীর দুলালেরা।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম তারেক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘তারেক রহমান, আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু পুরো নোয়াখালীবাসীকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে দিলেন। নোয়াখালীর প্রতি আপনার সুদৃষ্টি কামনা করি।’
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্তত ২-৩ জন মন্ত্রী হওয়ার আশা করেছিলাম। আশা করি, বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের দেখতে পাব। মন্ত্রী না পেলে অবহেলিত নোয়াখালী অবহেলিতই থেকে যাবে। নোয়াখালী বিভাগ, নোয়াখালী সিটি করপোরেশন ও নোয়াখালী বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অন্তত দুইজন মন্ত্রী প্রয়োজন।