মা বাবা ছাড়া আপন আর কেউ নেই এ হলো চির সত্য মা-বাবাকে অবহেলা করবেন না। উপসম্পাদকীয় লেখাটি সকলে পড়ার অনুরোধ রইল। ছবিটির সাতক্ষীরা বউ এবং ছেলে বাবাকে মারছে।
ফেসবুকের কল্যানে আমরা আজকাল পরিচিত অপরিচিত অনেকেরই আবেগঘন কিছু স্ট্যাটাস দেখতে পাই । তারমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে নিজ বাচ্চার ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখে ,” আমার পৃথিবী ” । শুধু তার বাচ্চাটা বা বাচ্চারাই যদি তার সমস্ত পৃথিবী হয় তাহলে তার পরিবারের অন্যদের স্থান কই ? হয়ত এটা একটা কথার কথা । অতি আবেগে মানুষ বলে ফেলে । কিন্তু অনেকের কাছে এটা শুধু কথার কথা না । এটাই তার আসল কথা এবং তাই তো সে মা বাবা , ভাই ,বোন কারো প্রতি দায়িত্ব পালন না করে তার পৃথিবী নিয়েই থাকে । কিন্তু এই যে আমরা সন্তানকে অতি ভালোবেসে পৃথবীটাকে ছোট করে শুধু তাকে বা তাদেরকে নিয়েই থাকি তাহলে আমার সন্তান তো বৃদ্ধ বয়সে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবেই বা অচেনা কোন পথের ধারে ফেলে আসবেই । কারণ এই সন্তান তো শিখেছে শুধু নিজ সন্তানই তার পৃথিবী । বাবা মা বা পরিবারের অন্য কারো জন্য কোনো দায়িত্ব পালন করতে হয় না ।
তার পৃথিবীও তখন তার সন্তানই হয় । আর কারো স্থান নেই সেই পৃথিবীতে ।
কিন্তু পৃথিবীটাকে ছোট করে ফেললে তো হবে না । ভালোবাসা নিম্নমুখী এটা আমরা সবাই জানি । তাই সন্তানের জন্য ভালোবাসাটা বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক । এই ভালোবাসাটা অন্য রকম । সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন যেমন আমরা অবশ্যই করব তেমনি পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিও সাধ্যমত দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব ।
আমি অনেককেই দেখেছি তার সাধ্যের বাইরে গিয়েও তার সন্তানের পিছনে খরচ করে কিন্তু বৃদ্ধ বাবা মার জন্য একপাতা প্যারাসিটমল কিনার টাকাও তার কাছে থাকে না বা থাকলেও ব্যয় করাটাকে সে অপচয় মনে করে । সে কোনো ভাবেই তার সন্তানের চাহিদার বা চাওয়া পাওয়ার ঘাটতি রাখতে চায় না । হায়রে মানুষ !! সন্তানের জন্য এত কষ্ট করো ! অথচ একটু ব্যালেন্স করে চললেই সবার জন্য দায়িত্ব পালন করা যায় । প্রয়োজন শুধু ইচ্ছার । ইচ্ছা না থাকলে কোটি টাকার উপর বসে থাকলেও বাবা মার জন্য দায়িত্ব পালন করতে পারবে না ।
বনের রাজা ওসমান গণির কথা অনেকেরই হয়ত মনে আছে । ঐ যে বন বিভাগের এক বড় কর্মকর্তা যে অবৈধ টাকা উপার্জনের দায়ে গ্রেফতার হয়েছিল । যে টাকা রাখার জায়গা পাচ্ছিল না । তাইতো সে বালিশ , তোষক , জাজিমের নিচে টাকা রেখেছিল । ব্যাংকে এবং আলমারিতে তো ছিলই । অথচ সেই ওসমান গণি তার গ্রামে থাকা বৃদ্ধ মা এবং প্রতিবন্ধী বোনের জন্য মাসে মাত্র পাঁচশ টাকা করে পাঠাত । এটা তখন তার মায়ের এক সাক্ষাত্কার থেকে জেনেছিলাম । এই ঘটনাটা লেখার কারণ হলো যে শুধু অর্থ থাকলেই হয় না সেই অর্থ বাবা মার পিছনে খরচ করার ইচ্ছাও থাকতে হয় । যার যেমন সামর্থ সেই সামর্থ অনুযায়ীই সন্তানের সাথে সাথে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অবশ্যই করতে হবে ।
( মনটা বিষিয়ে আছে ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখে । এক বৃদ্ধ মাকে তার সন্তানেরা রাস্তায় ফেলে গিয়েছে । কতদিন আগে ফেলে গিয়েছে সে মা বলতে পারছে না । কিন্তু যখন সে এক হৃদয়বান মানুষের চোখে পরেছে তখন তার হাতের ক্ষতস্থানে বড় বড় পোকা হয়ে গিয়েছে । কারণ তার হাতটি ছিল ব্যান্ডেইজ করা । হয়ত এক্সিডেন্ট করেছিল । সন্তানরা প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে রাস্তায় ফেলে গিয়েছে । তাকে উদ্ধার করে ব্যান্ডেইজটা যখন খুলেছিল অসংখ্য পোকাসহ পচা মাংসের হাতটা আমি এ জীবনেও ভুলবো না । এত নিষ্ঠুর এ পৃথিবীর মানুষ !! আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখাটি লিখিনি । ভিডিওটি দেখে এত কষ্ট পেয়েছি যে হয়ত আবোল তাবোল কিছু লিখে ফেললাম