ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২১ সালে, ঋণগ্রস্ত দেউলিয়া সলিমুল্লাহ মারা যায় ১৯১৫ সালে। তারপূর্বে ব্রিটিশদের দেওয়া চাকুরী হারিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিন নিপাত করে ব্রিটিশদের পদলেহনমূলক রাজনীতির বিনিময়ে লর্ড কার্জনের দয়ায় ৩% সুদে ত্রিশবছরে পরিশোধযোগ্য চৌদ্দলাখ টাকা ব্যাংকঋণ নেয় ১৯০৮ সালে।
ব্যাংক ঋণের টাকায় মুভি বানানো, রাজনীতি, রেসকোর্সে জুয়া, গাড়ি কেনা, বাইজিনাচসহ নানাবিধ বিলাসিতায় উড়িয়ে দেউলিয়াত্বের ঘোষণা দিয়ে সলিমুল্লাহ মারা যায়। দেউলিয়া হয়ে মৃত্যুবরণ করায় তাদের সংগ্রহে থাকা রত্ন দরিয়া-ই-নূরসহ তাদের যাবতীয় পারিবারিক সম্পত্তি ব্যাংক জব্দ করে। (ঋণ পরিশোধ না করায় ব্রিটিশ ব্যাংক অভ ইন্ডিয়া, ব্যাংক অভ পাকিস্তান হয়ে এখন আমাদের সোনালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখায় জব্দ আছে)
এখন আসি ঢাকা ভার্সিটির জমি প্রসঙ্গেঃ ঢাকা অতীতে মুঘল সুবার রাজধানী হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে সুবেদারদের দ্বারা শাসিত হতো তাই সেন্ট্রাল ঢাকায় কোনো জমিদারি গড়ে উঠেনি। এ-কারণে ঢাকার জমি সরকারি খাসজমি কিংবা ডাচ, আর্মেনিয়ান, গ্রীক, ফ্রেঞ্চ, মগদের নিকট লিজ দেওয়া জমি ছিলো। কোনো জমিদারের জমি ঢাকায় ছিলোনা।।
ঢাকা ভার্সিটি জায়গাটি ছিলো মূলত সরকারি খাসজমি, রমণা মন্দিরের জমি, আর্মেনিয়ান ব্যাবসায়ী দুইবোনের লিজ নেওয়া জমি৷ একইভাবে সলিমুল্লাহ মেডিকেলের জমি ছিলো ডাচদের নিকট লিজ দেওয়া জমি যেটি ব্রিটিশরাজ অধিগ্রহণ করে।
ঢাকা ভার্সিটি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আর্থিক অবদান রাখেন বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরী যার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার বাবা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে জগন্নাথহলের নামকরণ করা হয়। মুসলমানদের মধ্যে একমাত্র টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির জমিদার নওয়াব আলী চৌধুরী আর্থিক অনুদান দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম সলিমুল্লাহ হল করার প্রসঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান তৎকালীন পূর্ববাংলার মুসলিমলীগ নেতৃবৃন্দের অনেকেই নবাব পরিবারের আনুকুল্যে নেতৃত্বে আসায় তারা তাদের ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ঢাবির একটি হলের নাম সলিমুল্লাহ হল রাখার প্রস্তাব করেন।
সলিমুল্লাহর পূর্বপুরুষ লবণ এবং চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল গণি সিপাহি বিদ্রোহের সময় বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে সিপাহিদের ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ব্রিটিশদের আস্থালাভ করেন। ধরিয়ে দেওয়া সিপাহিদের ভিক্টোরিয়া পার্কের গাছে-গাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয় ব্রিটিশরা এবং ব্যবসায়ী আব্দুলগণির প্রতি খুশী হয়ে মুঘলদের ঢাকাস্থ খাসজমি ভোগ দখলের সুযোগ দেয়। এই সম্পত্তির বেদখল পেয়ে লবণব্যবসায়ী আব্দুলগণি ফ্যামিলি সম্পদে ফুলেফেপে উঠে নবাবদের মতো বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন। তাদের বিলাসবৈভব দেখে জনগণ তাদের নবাব ডাকা শুরু করে যদিও নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরবর্তী নবাব মীর কাসিমের পর বাংলায় আর কোনো নবাব ছিলোনা।
তথ্যসূত্রঃ সৈয়দ আবুল মকসুদ রচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা, সরদার ফজলুল করিম রচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ: অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক-এর আলাপচারিতা ও অন্যান্য। ( True History as it has source )
### Extremely Sorry for the collected post … TAKE CARE …
মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা”
…………. রবীন্দ্রনাথ।
বিপরীতে যাঁর দানকৃত ৬০০ একর জমির উপর আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ,
বুয়েটের মতো
দেশের নামকরা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রদ্ধেয় স্যার সলিমুল্লাহ সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীতে এইসব প্রতিষ্ঠানে কোন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।
অন্যদিকে তৎকালীন সময়ে কবি র-বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাঙালি বিদ্বেষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধীতার কথা কমবেশি সবারই জানা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় শুধু কঠোরভাবে বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি ব্রিটিশদের সাথে রীতিমতো দেন-দরবার করেছিলেন যাতে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় না করা হয়। সেসময় র-বীন্দ্রনাথ এক অনুষ্ঠানে দাম্ভিকতার সাথে বলেছিলেন “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা!” অন্যত্র এক অনুষ্ঠানে এদেশের মানুষকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করে রবী ঠাকুর বলেছিলেন “সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালী করে মানুষ করোনি”। অথচ সেই র-বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন, মৃত্যুদিন, সাহিত্য উৎসবসহ আরো অনেক আয়োজন ধুমধামের সাথে পালন করা হয়।
আর যে বঙ্গসন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার সেই নবাব স্যার সলিমুল্লাহকে আজকের শিক্ষার্থীদের অনেকেই চেনাতো দূরের কথা নামটাও জানেনা। আমরা এতোটা অকৃতজ্ঞ যে বলতেও লজ্জা লাগে!
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর সাথে সাথে এইসব ইতিহাস ও জানাতে হবে নতুন প্রজন্ম কে।
সংগৃহীত
N.B : This post has been collected… Is it true or false ? Would you pls give your consent or opinions about this post ?