তারা হলেন, হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ,ভিপি শাহনাজ পারভিন, সানজানা চৈতী পপি,শাহীনুর রহমান (সাগর) ও ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী। দল থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে তারা সবাই-ই আশাবাদী।
এই পাঁচ নেত্রীর মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান নোয়াখালী জেলা মহিলা দলের সভাপতি ভিপি শাহনাজ পারভিন। তিনি নোয়াখালী মহিলা কলেজের ৯৪-৯৫ সালের নির্বাচিত ভিপি। জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ছাত্র ফোরামের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, ১১ বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাত বছর। ভিপি শাহনাজ পারভিন জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সাবেক এই অ্যাথলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যও।
দলের দুর্দিনে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন বলে জানান শাহনাজ পারভিন। তিনি জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদও রয়েছেন মনোনন দৌড়ে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের মেয়ে। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে স্বামী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদের ছেড়ে দেওয়া নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আসেন।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি। আমার স্বামী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং আমি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার সেবা করেছি। এদিকে রাজধানী ও জেলা জড়িয়ে আলোচনায় রয়েছেন সানজানা চৈতী পপি তিনি নোয়াখালী বাড়ি সোনাইমুড়ী তে বিএনপি’র রাজনীতি শুরু করেন ছাত্র জীবন থেকে সৈরাচার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং ১৭ বছর হাসিনার বিরুদ্ধে যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ ছিল সক্রিয়। হোরতাল অবরোধে অংশগ্রহণে ছাত্রলীগ ও পুলিশ হামলা চালায় তার উপর এরপর চিকিৎসার জন্য দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তাকে চিকিৎসার জন্য বাইরের রাষ্ট্রে নিয়ে চিকিৎসা করেন। এরপর থেকেও তিনি আন্দোলনে থেমে নাই লাঠি ভর দিয়ে ১২ বছর হেঁটেছে।
আন্দোলন সংগ্রাম করে জেল খেটেছেন কয়েকবার।
আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর রহমান সাগরও। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নোয়াখালীর পৌরসভার করিমপুরের বাসিন্দা শাহীনুর রহমান ২০০১ সালে ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আইন পেশা ও রাজনীতির কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও নোয়াখালীর রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই নেত্রী।
মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি হাতিয়ার প্রখ্যাত জমিদার ও দানবীর আলহাজ আজহার উদ্দিন মিয়ার বংশধর। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নিজ বাসভবন ছেড়ে দেন তিনি।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা করি। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে জনগণের সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চাই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুন আর রশিদ আজাদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। দলের প্রধান যাচাই-বাছাই করে যাকে মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষে কাজ করব।