নোয়াখালীতে কোটি-কোটি টাকার নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে গোপণীয় দরপত্র আহবানের দায়ে অবরুদ্ধ হয়েছেন নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে।৫ জানুয়ারী
রোববার নোয়াখালী জনস্বাস্থ্যের সাধারণ ঠিকাদার কর্তৃক বেলা ১১ টা হতে বিকেল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ থাকতে দেখা যায়।
এ সময় জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে অবস্থান করা ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ডানিডার একটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী জনস্বাস্থ্যের নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। তিনি এসব সামগ্রীর বিক্রয়ের দরপত্র অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহবানের নামে নামখাওয়াস্ত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। যাতে কোন ঠিকাদাররা অবহিত না থাকায় তারা এ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। এ সুযোগে তিনি এ দপ্তরের আরেক ঠিকাদার কাম ফ্যাসিবাদের দোসর মেসার্স শাহনাজের কাছে ঐসব নির্মাণ সামগ্রী পানির দরে বিক্রয় করে দেন।
সূত্র জানায়, মেসার্স শাহনাজ রাতারাতি এসব সামগ্রী গুদাম থেকে উদাও করে চরবাটা ও চর আমানুল্লায় সংরক্ষণ করেন। এ নিয়ে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে জানাজানি হলে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। একপর্যায়ে, তারা এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে এ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে নির্বাহীকে নিজ কার্যালয়ে বেলা ১১ টা থেকে বিকেল পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন।
প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের লোভ-লালসা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের একটি প্রকল্পের জন্যে বরাদ্ধকৃত ৯০ কোটি টাকা ঢাকায় ফেরত যায়। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত হয় নোয়াখালীর জনজীবন।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারদের থেকে মোটা অংকের কমিশন না পাওয়ায় এ দপ্তরের অনেকগুলো দরপত্রের কার্যাদেশ যথাসময়ে দিচ্ছেন না তিনি। ফলে সেসব কাজের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব ঠিকাদার মোটা অংকের কমিশন দিয়ে কাজের মধ্যস্থতা করছেন তারা কাজ করছেন। এতে কোন ধরনের মান রক্ষা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। নিউজ লেখা পর্যন্ত
এ বিষয়ে অবরুদ্ধ থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে বারবার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।