ক্ষমার বিষয় ইসলাম কি বলে? লেখক মোর্শেদা আক্তার সুমি।
একজন মদ্যপ, ব্যভিচারী, বে-নামাযী এমনকি কা-ফির যে কোনো সময় তার পাপে অনুতপ্ত হয়ে তার প্রভুর কাছে বেদনার্ত ও ব্যথিত মনে অনুতাপ করে আর পাপ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলেই তার তাওবা হয়ে গেল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন বলে কুরআন করীমে ও অগণিত হাদীসে বলা হয়েছে।
.
কিন্তু যে পাপের সাথে কোনো বান্দার হক জড়িত সে পাপের ক্ষেত্রে তাওবার অন্যতম শর্ত অনুতাপ, ক্রন্দন ও পাপ পরিত্যাগের সিদ্ধান্তসহ যার অধিকার নষ্ট করা হয়েছে তার নিকট থেকে ক্ষমা লাভ করা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে ক্ষমা লাভ করতে না পারলে তাদের অংশ আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠান করবেন।
.
সকল হারাম উপার্জনের মূল কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ বা রাষ্ট্রের সম্পদ অবৈধভাবে গ্রহণ করা। হারাম উপার্জন থেকে তাওবার জন্য-
প্রথমে, গভীরভাবে অনুতপ্ত হতে হবে।
দ্বিতীয়, সকল প্রকার অবৈধ উপার্জন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তৃতীয়, যাদের নিকট থেকে অবৈধভাবে সম্পদ গ্রহণ করা হয়েছে তাদেরকে, বা তাদের উত্তরাধিকারীগণকে তা ফিরিতে দিয়ে ক্ষমা নিতে হবে। -এ তৃতীয় শর্তটিই সবচেয়ে কঠিন।
.
এতে অক্ষম হলে অবৈধভাবে উপার্জিত সকল অর্থ ও সম্পদ যাদের সম্পদ তাদের নামে বিলিয়ে দিতে হবে, বেশি করে তাদের জন্য দুআ করতে হবে, বেশি করে আল্লাহর কাছে কাঁদতে হবে, যেন তাদের এ হক আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। সর্বোপরি খুব বেশি করে সাওয়াবের কাজ করতে হবে, যেন পাওনাদারদের দেওয়ার পরেও নিজের কিছু থাকে। সর্বাবস্থায় আল্লাহর দরবারে নিজের অসহায়ত্ব, আকুতি ও বেদনা পেশ করে সদা সর্বদা তাওবা করতে হবে।
.
সাহাবী ও তাবেয়ীগণ বলেছেন, এসব কিছুর পরও তার আখেরাতের নিরাপত্তার বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না।”