প্রসঙ্গ।।।
নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য নবায়ন । এ আর আজাদ সোহেল সহসাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী প্রেসক্লাব
নোয়াখালী জেলা যেমন ঐতিহ্যবাহী একটি জেলা। তেমনি সামাজিক,রাজনৈতিক,শিক্ষা, সংস্কৃতিতে রয়েছে এর নানাবিধ ঐতিহ্যের অনেক ইতিহাস। একইসুত্রে নোয়াখালী প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব। বাংলাদেশের একমাত্র প্রেসক্লাব যেটি বঙ্গবন্ধুর হাতে স্পর্শ মার্বেল পাথর দিয়ে ভৃত্তিপ্রস্তুর খোদাই করা রয়েছে।
আমরা যারা নোয়াখালীতে সাংবাদিকতা করি একেক জন একেক মিডিয়ায় কাজ করি সকলেই এই প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার অধিকার রাখি। এটি আমাদের একটি মিলনস্থল।
আমি নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো যত দ্রুত সম্ভব আগামী সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য নবায়ন করুন এবং নতুন সদস্য আবেদন ফরম ছেড়ে যারা সদস্য তালিকায় বাদ পড়েছেন কিংবা সদস্য হতে চান তাদের সদস্য তালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে আপনাদের বিনীত অনুরোধ করছি। আমি জানি আমি অনেকেরই চক্ষুশুল। যাহাই হই আমি ন্যায্য কথা বলে যাবো। আমি সারা জীবন বেঁচে থাকবো না তবে আমার কর্ম বেঁচে থাকবে। বিগত দিনে কি করেছি তা আগামী দিনে সাক্ষ্য দেবে।
একটি স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক মহল এই প্রেসক্লাবটিকে দীর্ঘদিন কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। যার কারনে অধিকাংশ পেশাগত সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সদস্য হতে না পেরে একাধিক প্রেসক্লাব বা অন্যসংগঠন সৃষ্টি করতে বাধ্য হন। যা প্রেস ফোরাম,বৃহত্তর নোয়াখালী প্রেসক্লাব,নোয়াখালী জেলা প্রেসক্লাব নামে নাম সর্বোস্ব সাইনবোর্ড ছিল। আর এ সুযোগটিই হলুদ সাংবাদিকরা কাজে লাগিয়েছে। হুড় হুড় করে বেড়েছে অপ-সাংবাদিকতার দৌরাত্ম। পেশাদার সাংবাদিক গন নিজেদের দল ভারি করতে অক্ষর জ্ঞানহীন ব্যক্তিটিকেও সদস্য বানিয়েছেন।
সাংবাদিক জাতির চতুর্থস্থম্ভ।যাক সেদিকে নাইবা গেলাম। তখন এসব অখাদ্য কুখাদ্য ব্যক্তিরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে থাকে। দিনে দিনে তাদের আগ্রাসন বেড়ে যায়। লেখাপড়ার বালাই নাই অথচ নিজেই ইউটিউব চ্যানেল খুলে বনে যান বড় মাপের সাংবাদিক। অনেকের দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধিও আছেন। নেমে পড়েন অর্থ আদায়ের নানান কৌশল নিয়ে।
চরা অঞ্চলের সাধারণ মানুষরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বড় ক্যামরা ভাড়া করে হরদমে চলে ধান্দা বাজি অসৎপথে অর্থ উপার্জন আর মুল পেশাদার সাংবাদিক গুলো হচ্ছেন কলংকিত। বিভিন্ন স্থানে সাধারণ অশিক্ষিত মানুষের মুখে সাংবাদিকদের সমালোচনা শুনে আমরা অনেকেই লজ্জিত হয়েছি।
তখন প্রশ্ন আসে এ থেকে উত্তরনের উপায় কি?
আর উপায় হিসাবে মুল পেশার সাংবাদিকদের মুল্যায়ন তথা নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সদস্য হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। শুরু হয় প্রেসক্লাব নিয়ে দপায় দপায় বৈঠক। এর আগে আরো অনেক ঘটনাও ঘটেছে। মামলা, হামলা সহ এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে। সে অনেক কথা। তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব বদরে মুনির ফেরদৌস, জেলা প্রশাসক জনাব তন্ময় দাস, জেলা প্রশাসক জনাব মাহবুবুল আলম তালুকদার, জেলা প্রশাসক জনাব খুরশিদ আলম একে একে ৪ জন জেলা প্রশাসক ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব নাজিমুল হায়দারের অক্লান্ত পরিশ্রমে সদস্য রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষে সদস্যদের তালিকা ঘোষণা, প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই শেষে ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। তারপর শুরু হয় নতুন আরেক ষড়যন্ত্র। জনাব মীর মোশারফ হোসেন মিরনসহ একটি পক্ষ হাইকোর্টে মামলা করেন এবং নির্বাচন বন্ধ করে দেন। সর্বশেষ মহামান্য হাইকোর্ট ব্রাঞ্চ বিগত ১৮ই সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন। এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
এখন নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি এবং সদস্যদের কাজ হচ্ছে নতুন সদস্যদের তালিকাভুক্ত করা। যারা নিয়মিত পেশাদার সাংবাদিক অথচ নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারেননি তাদেরকে সদস্য অন্তর্ভুক্তি করা।