গ্রেপ্তার সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের মুন্সি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট
গ্রেপ্তার সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের মুন্সি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে ধর্ষণ করতেই সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের মুন্সি চুরির পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েকজনের সহযোগীতায় সেই গৃহবধূর বাড়িতে সিধ কেটে ঘরে ঢোকেন প্রধান অভিযুক্ত। এরপর ওই গৃহবধূ ও তাঁর ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হয়।
এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে ধর্ষণ করতেই চুরির ঘটনা সাজান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের মুন্সি (৫০)। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আবুল খায়ের মুন্সি তাঁর জমির বর্গাচাষী মো. মেহরাজকে (৪৮) দিয়ে ওই গৃহবধূর বসতঘরে সিঁধ কাটান। সিঁধ কেটে মেহরাজ ঘরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দিলে স্থানীয় গরু বেপারী মো. হারুনকে (৪২) নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন আবুল খায়ের মুন্সি। এরপর আবুল খায়ের মুন্সি ও হারুন পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় মেরহরাজ ওই নারীর ১২ বছরের শিশু কন্যাকে হাত বেঁধে ধর্ষণ করেন।’
এসপি জানান, পরে আসামিরা ফেরার পথে স্বর্ণের কানের দুল ও ঘরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী শিশুর হাতের বাঁধন খুলে দেন এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মো. মেহরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে এবং এ মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের মুন্সিকে মুখোমুখি করা হলে তারা পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। ঘটনার সময় অবুল খায়ের মুন্সির পরনে থাকা কালো প্যান্ট, কালো কানটুপি, সিধ কাটার কাজে ব্যবহৃত কোদাল, কাচি জব্দ করা হয়েছে।
এসপি বলেন, ‘মূলত হারুন গৃহবধূর বসতঘরে মালামাল আছে বলে মেহেরাজকে চুরি করতে উদ্বুদ্ধ করে। মেহরাজ রাজী হলে সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর হারুনের সঙ্গে মুন্সি মেম্বারকে দেখে মেহরাজ অবাক হয় এবং বুঝতে পারে ধর্ষণ করতেই তাকে দিয়ে চুরির ঘটনাটি সাজিয়েছে। মো. হারুনের সহযোগিতায় আবুল খায়ের মুন্সি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। সেখানে রিমান্ড প্রার্থনা করে তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। বাকি আসামি হারুনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) বিজয়া সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজীব, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) নিত্যানন্দ দাস, চরজব্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই এলাকার একটি বাড়িতে সিধ কেটে এক গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘর থেকে দুটি নাকফুল, কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা লুট কো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আবুল খায়ের মুন্সি ও মো. হারুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ, পরস্পর সহযোগীতায় সংঘবন্ধ ধর্ষণে অভিযোগে চরজব্বর থানা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহর থেকে আবুল খায়েরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গতকল রাতে চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেরাজ একই এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে।