বাংলা সিটি পিএলসির নতুন অফিস উদ্বোধনীর পর আজ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
মোঃ ইদ্রিছ মিয়া ।

শুধু ব্যবসা নয়, মানবতার কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠিত বাংলা সিটি পিএলসি দেশের ব্যবসা জগতে অন্যতম একটি নবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার দৃষ্টি কাঁড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানে বক্তা কোম্পানির এমডি নুরুল ইসলাম। ৪ জুন মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় কোম্পানির নিজস্ব অফিসে অনুষ্ঠিত হয়।গত১জুন রাজধানী মতিঝিলে গাউসে পাক ভবনের লিফটের -৬ তলায় সাত হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অফিস উদ্বোধন করা হয়। কোম্পানীর চেয়ারম্যান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেন কোম্পানীর অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ, শেয়ার হোল্ডার ও শুভানুধ্যায়ীদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে নতুন অফিস উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে পরিচালক, শেয়ার হোল্ডার ও শুভানুধ্যায়ী মিলে ৩ শতাধিক লোক অংশ গ্রহন করেন। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সাজানো হয়েছিলো খানিকটা জমকালো আয়োজনে। ফুল, মিষ্টি, স্টিকার, ব্যানার ফেস্টুন, চা আড্ডা,অনুভূতি ব্যক্তের পাশাপাশি গাণে-গানে সময় ছিলো অনেকটাই রঙিন। প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে অংশ গ্রহণকারিদের চোখে মুখে ছিলো সম্ভাবনা ও আনন্দের ঝিলিক। ৪ জুন মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় আলোচনা সভা ও কয়েকটি কমিটির নাম ঘোষণা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেন বলেন, আমরা এখানে ব্যবসা করবো। কোন প্রকার অস্বচ্ছতার জায়গা এখানে নেই। নিজ জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক বড় দায়িত্ব পালন করেছি। চেষ্টা করেছি সব অবস্থায় মানুষের কল্যাণ কাজ করার। এখন আপনাদের সাথে আছি। এখানে মানুষের কল্যাণ করার অপার সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ একক কোন ব্যক্তি বা হাতে গোনা কয়েকজন করতে পারবে না। এ জন্য কোম্পানীর সকল পরিচালক, শেয়ার হোল্ডারসহ সবার সহযোগিতা ও অংশ গ্রহণ লাগবে। যদি তা করা যায়, তাহলে বাংলা সিটি ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি মানবিক একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে। আমরা সেই সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় থাকবো ইনশাল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
কোম্পানীর ভাইস চেয়ারম্যান ও কুরআন মজলিশ বাংলাদেশের আমীর মাওলানা এমদাদ উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, ব্যবসা ভাল বিষয়। আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন। আর সুদকে হারাম করেছেন। একজন ভাল সৎ ও দক্ষ ব্যবসায়ীর জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবসায়ীর দ্বারা যদি কারো সামান্যতম হক নষ্ট হয়, তাহলে তার জন্য অবশ্যই সেই ব্যবসায়ীকে ক্কিয়ামতের কঠিন দিনে কঠোর হিসেবের মুখে পড়তে হবে। হতে পারে এ হক নষ্টের কারণে জাহান্নামে যেতে হতে পারে। তিনি এ বিষয়টি সামনে এনে সকলের প্রতি আহবান জানান যেন ব্যবসায়িক সততার প্রশ্নে বাংলা সিটি কখনো আপোষ না করে। তাহলে হাজারো প্রতারণার ভিড়ে বাংলা সিটি হয়ে উঠবে এ দেশের মানুষের আস্থার ঠিকানা।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে প্রধান আলোচক কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম খোকন কোম্পানীর ব্যবসা মিশন ভিশন তুলে ধরে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলা সিটি বিধিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের পাশাপাশি এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলা সিটি অন্যান্য অনেক কাজের সাথে ল্যান্ড ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করবে।
তিনি জানান, যদিও বাংলা সিটির প্রথম প্রকল্প হিসেবে আমরা ঢাকা ১ আসনের সম্ভাবনাময় স্থান নির্ধারণ করেছি তার মানে এই নয়, আমরা শুধু ওখানেই সীমাবদ্ধ থাকবো, বাংলাদেশের যেখানেই জমি পাওয়া যাবে সেখানে অবশ্যই বাংলা সিটি কাজ করবে। কোথায় কোন জমিতে কোন কাজ করলে সেখানে মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি কোম্পানী লাভবান হবে, আমাদের ডিরেক্টর,
শেয়ার হোল্ডারগণ ভাল থাকবেন সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বাংলা সিটি। তিনি কোম্পানীর সকল ডিরেক্টর শেয়ার হোল্ডারদের কোম্পানীকে স্বচ্ছ, জবাব দিহি, এবং কার্যকর রাখতে সকলের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে গান, কবিতা আবৃত্তি সহ চা নাস্তার আয়াজনে ছিল ভিন্ন এক আমেজ। অনুষ্ঠানে পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডারদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সঞ্চালনা করেন কবি মাওলানা খন্দকার শহীদুল হক।