প্রথমত নমিনেশন উন্মুক্ত করে দিল ,কলেজে পড়ুয়া কোনো নারী ছাত্রদল কর্মীও যেমন সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তেমনি অরাজনৈতিক বা বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী যেকেউ নমিনেশন পেপার তোলার সুযোগ পেয়েছেন।দ্বিতীয় ধাপে, যেখান থেকেই ফিল্টার করা শুরু হয় সেখানে মনোনয়ন পেপার জমাদানে জামানত বাড়িয়ে দেওয়া হলো। যাতে যেগুলো ফাও ফাও পেপার তুলছেন ফটোশ্যুট করার জন্য কিংবা আলোচনায় আসার জন্য এরা পেপার জমাদান প্রক্রিয়া পর্যন্ত আর না আগায়।সবাইকে নমিনেশন পেপার জমার সঙ্গে অবশ্যই সিভি যোগ করতে নির্দেশ দিছে। এখানে আরেক ধাপে ফিল্টার হলো।নিজে কিংবা স্বামীর নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে সেসবে ঋণ নেওয়া আছে কিনা, থাকলে বিস্তারিত তথ্যপ্রদান এবং ফৌজদারি মামলা আছে কিনা, থাকলে তার বিবরণ, এসব নিয়ে ক্লিয়ার স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়েছে।যারা সকল ক্রাইটেরিয়া মেনে এ পর্যন্ত এসেছেন, তাদেরকে ডাকা হয়েছে ভাইভার জন্য।এই কাজটা একবারে আনএক্সপেক্টেড ছিল। কেউ ভাবেনও নাই এমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। অতীতে এই কাজ দেখা যায়নি। শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দের সিগন্যালের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা নমিনেশন তুলতেন। কিন্তু এবার তা হয়নি।দুইদিনে প্রায় সাড়ে ৯০০ জন মুখোমুখি হয়েছেন মনোনয়ন বোর্ডের। যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। গত শুক্র-শনি, দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্তই চলছে এ কর্মযজ্ঞ।ভাইভাবে কমন যে ৫টি প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছেএক, কবে থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন?দুই, বর্তমানে সংগঠনের কোন স্তরে কাজ করছেন?তিন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে দলের জন্য আপনার অবদান কী? যেমন: মামলা থাকলে কয়টি, কীসের মামলা। হামলার শিকার হয়ে থাকলে কতবার, কখন এবং কোন আন্দোলনে, কোন প্রেক্ষিতে ইত্যাদি।চার, কেন আপনি নিজেকে সংরক্ষিত নারী কোটায় দলের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সুযোগ পাওয়ার জন্য যোগ্য মনে করছেন?পাঁচ, আপনাকে সিলেকশন করা হলে আপনি সংসদে গিয়ে ঠিক কীভাবে ভূমিকা রাখবেন দেশ এবং জনগণের জন্য?মনোনয়ন পেপারের সকল তথ্য যাচাই, সিভি রিভিউ, দলের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে অবদান পর্যালোচনা এবং ভাইভার পারফর্মেন্স, এ সবকিছু বিবেচনা করেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মনোনয়ন বোর্ড।তবে এরমধ্যে হয়ত দু—চারটি সিটে বিশেষ বিবেচনা কিংবা কাটাছেঁড়া হবে, তা আগে থেকে বলাযায়; এটি স্বাভাবিকও।গৎবাঁধা প্রক্রিয়ায় ’পছন্দসই’ নারী এমপি বাছাই করা থেকে বেরিয়ে ডেমোক্রেটিক প্রসেসেই যেভাবে ত্যাগী এবং দলের জন্য ডেডিকেটেড কর্মীদের থেকে এমপি বাছাই করা হচ্ছে, এটা আশাজাগানিয়া। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার মধ্যদিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাপক নারী লিডারশীপ তৈরি সম্ভব। সংবাদ সংগ্রহ করা।