1. news@dailyupokulbarta.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
এক বছরের পুত্র সন্তান কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাক প্রতিবন্ধী মা | দৈনিক উপকূল বার্তা
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তুলতুলের পারিবারিক জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি সিলেকশন বিএনপি যেভাবে করতেছে এবার, তা এপ্রিশিয়েবল। কয়েকটি স্তরে ফিল্টারে ত্যাগী এবং দলের জন্য ডেডিকেটেড, জেনুইন পলিটিক্যাল কর্মীদের ছেঁকে আলাদা করা হচ্ছে নোয়াখালীতে ১৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেলসহ গ্রেপ্তার ৪ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নোয়াখালীর ৫ নেত্রী। নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২২শত লিটার তেল লুটের অভিযোগ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন: নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সভা স্থগিতের দাবিতে সাদা দলের বিবৃতি   নোয়াখালীতে ৩ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ, জরিমানা

এক বছরের পুত্র সন্তান কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাক প্রতিবন্ধী মা

নাহিন আক্তার স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪
  • ১৯৩ বার

নোয়াখালীতে বাক-প্রতিবন্ধীর পিতৃ পরিচয়হীন শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে দুঃচিন্তা বাক প্রতিবন্ধী মা।

এক বছরের ফুটফুটে পুত্র সন্তান কোলে নিয়ে দিকবেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাক-প্রতিবন্ধী যুবতী আকলিমা খাতুন। বুকের সন্তানের পিতৃ পরিচয় নাই, তাতে কি? শত দুঃখ-কষ্টের মাঝেও সন্তানকে পরম স্নেহ-ভালোবাসায় আগলে রাখতে কোন কুন্ঠাবোধ করেননি এই বাক-প্রতিবন্ধী মা। নিজের এমন সর্বনাশ ও সন্তানের নিষ্ঠুর ভবিষ্যতের জন্য সাংকেতিক ভাষায় আল্লার কাছে বিচার চাইলেন আকলিমা। এদিকে বাক-প্রতিবন্ধীর পিতৃ পরিচয়হীন শিশু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুঃচিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম চরউরিয়া গ্রামের দিনমজুর নুরুন নবীর মেয়ে আকলিমা খাতুন ৬ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে ফেলেন বাক-শক্তি। ঐ থেকে শারীরিক কর্ম ক্ষমতা থাকলেও কথা বলতে পারেন না আকলিমা। দিনমজুর পিতার সংসারে অভাব-অনটনের কারণে এলাকার কয়েকটি বাড়িতে জিয়ের কাজ করে পরিবারকে সহযোগিতার পথ বেচে নেন এই বাক-প্রতিবন্ধী। কিন্তু কে জানতো জিয়ের কাজ করতে গিয়ে এমন সর্বনাশ হবে তার।
গত বছরের জানুয়ারীর দিকে আকলিমার শারীরিক গঠন দেখে অসুস্থ মা আর প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়, পরে গ্রাম্য ডাক্তারের সহযোগিতায় জানতে পারেন আকলিমা গর্ভবর্তী। বাক-প্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনার বিস্তারিত বলতে পারেননি আকলিমা। এদিকে মেয়ের এমন সর্বনাশ দেখে ঘটনা জানার কিছু দিনের মধ্যে মারা যান আকলিমার মা। ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অস্বচ্ছলতা ও অসচেতনতার কারণে যাননি কোন মামলা-মোকাদ্দমায়। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে আকলিমার গর্ভ থেকে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান, যার নাম রাখা হয় ইয়াছিন আরাফাত। বর্তমানে বাক-প্রতিবন্ধী আকলিমার ছেলের বয়স প্রায় এক বছর। বাক-প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং তার শিশু সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আকলিমার পরিবার।
আকলিমার বাবা নুরুন নবী বলেন, আমি গরিব-নিরীহ মানুষ, কার কাছে বিচার দিবো? আমার বোবা মেয়ের এমন সর্বনাশের জন্য আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম, তিনিই বিচার করবেন। বর্তমানে আমার বোবা মেয়েটি তার সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে আছে। অভাব-অনটনের কারণে আমি তাদের ঠিকমতো ভরণ-পোষণ দিতে পারছি না। যার কারণে মেয়েটি তার সন্তান নিয়ে প্রায় সময় বাড়ির বাহিরে চলে যায়। এতে অনেকেই তাকে ফুঁষলিয়ে কিছু টাকা হাতে দিয়ে বাচ্চাটাকে চুরি করে নিয়ে যেতে চায়। বাচ্চাটার কোন নিরাপত্তা নাই, আমরা কোনরকম পাহারা দিয়ে রেখেছি। অন্যদিকে মেয়ের সর্বনাশের সঙ্গে যুক্ত যে বা যারা আছে, তাদের জন্যও ভয়! কখন তারা আমার মেয়ে ও তার শিশু বাচ্চার ক্ষতি করে ফেলে। সরকারের কাছে বাক-প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং নাতির নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চেয়েছেন এই দিনমজুর।
বাক-প্রতিবন্ধী যুবতীর এমন সর্বনাশ দেখে হতাশ প্রতিবেশী এবং এলাকাবাসীও। নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল খালেক বলেন, কিছুদিন আগে তিনি বিয়ষটি জেনেছেন। এটি সামাজিক অনাচার, একটি বোবা মেয়ের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে জালিমের বাচ্চারা। এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে, সেই জন্য ভিকটিমের সাংকেতিক ভাষা বিশ্লেষণ করে এবং বাচ্চাটির ডিএনএ পরীক্ষা করে অপরাধীকে চিহিৃত করার দাবি জানান তিনি।
প্রতিবেশী মোহছেনা আক্তার ও মারজাহান বেগম বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে সর্বনাশ হয়েছে আকলিমার। ঘটনার ৫-৬ মাস পর তার শারীরিক গঠন দেখে তাদের সন্দেহ হয়। কিন্তু আকলিমা বোবা হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি। পরে ডাক্তার দেখিয়ে বিসয়টি নিশ্চিত হন পরিবারের সদস্যরা। এতে আকলিমার মা অসুস্থ হয়ে মারাও যান। পরে আকলিমার গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করতে দেননি প্রতিবেশীরা। সন্তান জন্মের পর আকলিমা চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এক দিকে অভাব, অন্যদিকে সন্তানকে হারানোর ভয়। একাধিক বার দুষ্ট চক্র তার শিশু সন্তানটিকে চুরি করে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। এখন প্রতিবেশীরা নিজেদের সাধ্যমত সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে মা-বাচ্চা দুইজনকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। আকলিমা এবং তার সন্তানের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক! শিশু কিভাবে পৃথিবীতে এসেছে, সেই দিকে না তাকিয়ে তার বেঁচে থাকার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাচ্চাটি সুন্দরভাবে যেন বেঁচে থাকতে পারে সেই জন্য ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা নিশ্চিতের আশা প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখিনূর জাহান নীলা বলেন, পিতৃ পরিচয়হীন শিশু এবং তার বাক-প্রতিবন্ধী মাকে কিভাবে সরকারের সুযোগ-সুবিধার আওয়ায় আনা যায় সেই ব্যাপারে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শিশুটির পরিবার চাইলে তাকে সরকারি শিশু পরিবারে রেখে লালন-পালনের ব্যবস্থা করা হবে। নিউজ লেখক মোঃ সোহেল

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© 2023, All rights reserved.
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট