গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি বহুতল ভবনে ২৬ শে এপ্রিল শুক্রবার সকালে স্বামী স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত ইসরাফিল মিয়া (১৮) শেরপুরের ঝিনাইগাতি থানার হলদি গ্রামের মফিজুল মিয়ার ছেলে এবং রোকেয়া খাতুন (১৬) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার পস্তারী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের ফারুক হোসেনের বহুতল ভবনে ভাড়া থাকতেন। ইসরাফিল স্থানীয় একটি ওয়ার্কসপ ও রোকেয়া স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন।
নিহত রোকেয়ার বড় ভাই বোরহান উদ্দিন বলেন, প্রেমের সম্পর্ক করে ৭-৮ মাস আগে পরিবারের অমতে তারা বিয়ে করেন ইসরাফিল ও রোকেয়া নিখোঁজ ছিলেন। পরে থানায় জিডি করে তাদের সন্ধান পেয়ে উভয় পরিবারের সাথে আলোচনা করে মিলমিশ হয়। এরপর থেকে তাদের সম্পর্ক ভালোই ছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া বিবাধ ছিল না। সম্প্রতি ইসরাফিল তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ৪ দিন বাড়ি ছিল না। পরে তাদের বুঝিয়ে বাসায় আনা হয়েছিল। গতকাল আর তাদের সাথে আমার কথা হয়নি। আজকে সকালে তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে এখানে ছুটে আসি।
স্থানীয় এলাকাবাসীদের কাছ থেকে জানতে পারা যায়,শুক্রবার সকালে নিহতের ছোট বোন দরজা ফাঁকা অবস্থায় দেখতে পেলে ভিতরে যাই এ সময় নিহত ইসরাফিল ওড়না প্যাচানো ঝুলন্ত অবস্থায় ও বিছানার উপরে তার স্ত্রীর লাশ পড়ে আছে। ছোট বোনের চিৎকারে তার মা ও এলাকাবাসী ছুটে আসে। এ সময় লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
চিরকুটে লেখা ছিল, বাবা মা আমাকে ক্ষমা করে দিও আমি তোমাদের সাথে থাকতে পারলাম না। আমার জান ফাসিতে ঝুলছে। আমি কাওকে দোষারোপ করিনা। আমার জান আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সবাই ভালো থাকবা। মা আমার কবরের পাশে রোকেয়ার কবর দিও। আমি জানি না সে কি জন্য ফাঁস নিল। এতে কারও কোন দোষ নাই এজন্য আমিই দায়ী।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের আলামত ও পাশে থাকা চিরকুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তদন্তের পর এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।