নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) পরিচালিত ‘‘বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি” এখন নোয়াখালীতে।
সোমবার বেলা ১২টায় বিআরটিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বাসে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটি কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছে।
এ সময় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানসহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সাধারণ লোকজন লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করেন। তাদের মধ্যে কেউ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বই হাতে নিয়ে পড়েন, কেউ লাইব্রেরির চারপাশে লাগানো বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন ছবি দেখেন, কেউবা লাইব্রেরি প্রদর্শিত বঙ্গবন্ধুকে তৈরি ভিডিওচিত্র দেখেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন,
‘বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি বিআরটিসির একটি অনন্যসাধারণ উদ্যোগ। এ লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ অনেক বই, আলোকচিত্র এবং জাতির জনকের নিজের লেখা অনেক বই রয়েছে। নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য এ লাইব্রেরি বেশ সমৃদ্ধ।’ এমন উদ্যোগের জন্য বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব তাজুল ইসলামের প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক।এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক
(সার্বিক) শারমিন আরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জিএস, বিআরটিসির সোনাপুর বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজার (অপারেশন) ওমর ফারুক মেহেদী, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু, জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সেটু কুমার বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ, মো. ফাহিম হাসান খান।
বিআরটিসির সোনাপুর বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজার (অপারেশন) ওমর ফারুক মেহেদী জানান, লাইব্রেরিটি আগামি ১০ দিন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়লয়, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, নোয়াখালী জিলা স্কুল, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবে।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ তিতিক্ষা, দেশপ্রেমিক চিন্তা ভাবনা ও বলিষ্ট নেতৃত্ব ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট তুলে ধরার জন্য বিআরটিসি নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় ‘বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী’ বাসটি প্রস্তুত করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর বিআরটিসি’র ‘বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর’ শুভ উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে জাতির সামনে বিআরটিসি’র সফলতার আরো একটি নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হলো।
বাস্তব সম্মত ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তি থাকলে যে একটি ভঙ্গুর, দুর্নীতিগ্রস্থ ও জরাজ্বীর্ণ প্রতিষ্ঠানকে উত্তরোত্তর উন্নত করা সম্ভব, তারই প্রমাণ রেখে চলেছেন বিআরটিসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম।