তানজিমুন রিশাদ,বরিশাল::
প্রত্যেক কোরবানি ঈদে মসলার চাহিদা বেড়ে যায়। আর সেই সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
শনিবার (১৫ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
এখন থেকে ঈদের আগ মুহূর্ত পযন্ত খুব ব্যস্ত সময় পার করবেন জানিয়ে বাংলা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, মসলার দাম খুব বেশি বাড়েনি। এবার জিরা ও লবঙ্গের দাম কমেছে। এটা সত্যি যে সম্প্রতি এলাচের দাম অনেক বেড়েছে। কেজিতে ছয়শ টাকার মতো। এটা কেন এত বেড়েছে, তার ব্যাখা নেই। অপরদিক বেড়েছে পাঁচফোড়ন, পেস্তাবাদাম, গুঁড়া হলুদ-মরিচের দাম। তবে ভাল মানের অনেক মসলা আমদানি করতে হয়। তাই আমদানি নির্ভর মসলাগুলোর দাম বেড়েছে। এছাড়া যেসব মসলার দাম সামান্য বেড়েছে, তা ঈদকে কেন্দ্র করেই বেড়েছে।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই মসলার বাজার খুব চড়া। প্রতি ঈদের আগে অলৌকিকভাবে মসলার দাম চড়া থেকে আরও চড়া হচ্ছে। দাম এতোটাই বাড়তির দিকে যে আগে থেকে মসলা কেনা হাতের নাগালের বাইরে চলে এসেছে।
বাজার রোডের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে যেসব মসলা বিক্রি হচ্ছে, তার অধিকাংশই ভারত থেকে আমদানি করা। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন এলাচ, জিরাসহ অন্যসব মসলা আমদানি হচ্ছে। যেখানে আগে প্রতিদিন তিন-চার ট্রাক মসলা আমদানি হতো। এখন সেখানে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আমদানি হচ্ছে তারা তিনগুণ বেশি। তারা বলছেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া ও এলসি খোলায় জটিলতার কারণেই মসলার দাম কিছুটা বেড়ে যাবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি হলে দাম খুব একটা বাড়বে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ঈদকে সামনে রেখে মসলার দাম তেমন বাড়েনি দাবি করে রুপাতলী বাজারের মসলা বিক্রেতা মিজানুর বলেন, মসলার দামের এমন অবস্থাতেও ক্রেতাদের সন্তুষ্টি নেই। কয়েকটির বেড়েছে তবে বাকি সব মসলার দাম এখন স্বাভাবিক অবস্থাতেই আছে।
তবে রুপাতলী বাজার করতে আসা ক্রেতা রাবেয়া আক্তার নাঈমা বলেন, ‘দুই একটি বাদে প্রতিটি মসলার দাম বাড়তি। আর এলাচের দামে যেন আগুন লেগেছে। এতো দাম যে ধরাই যায় না। কিন্তু মাংস রান্নাতে এলাচ না দিলে কি চলে? তাই দাম বাড়তি হলেও নিরুপায় হয়ে কিনেছি ।’
জিরা ও লবঙ্গের দাম কমেছে জানিয়ে বাজারের অপর একজন বিক্রেতা সাইদুল রহমান বলেন, ‘কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব মসলার দাম কমবেশি বাড়তি। তবে ঈদ হিসেবে এমন বাড়তি স্বাভাবিক। এর মধ্যে এলাচের দাম একটু বেশি। গত দেড় মাসের তুলনায় কেজিতে পাঁচ-ছয়শ টাকার মতো বেড়েছে।’ দুই ঈদের মধ্যে কোরবানিতে এমনিতেই মসলার দাম বেশি থাকে।
কাশিপুর বাজারে মসলা কিনতে আসা মো. অন্তর বলেন, ‘ঈদে গরু কোরবানি দিব। কোরবানির কারণে স্বাভাবিকভাবে মাংস খাওয়া হবে অন্যন্যা সময়ের চেয়ে বেশি। মাংস রান্না সুস্বাদু করতে হরেক রকমের মসলার প্রয়োজন হয় প্রচুর। কিন্তু মসলার বাজারে দেখি সবকিছুরই দাম বেশি। মাংস রান্না সু-স্বাদু করতে এলাচ দিতে হয়। সেই এলাচের দাম এখন অনেক বেশি। গত ঈদুল ফিতরে যেই এলাচের কেজি ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা, এখন সেই এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। একই সঙ্গে বেড়েছে পাঁচফোড়নসহ গুঁড়া হলুদ-মরিচের দাম। পেস্তাবাদামের দামও বেড়েছে। তবে বেশকিছু মসলার দাম স্বাভাবিক আছে ।’
একই বাজারের মসলার পাইকারি বিক্রেতা আসাদুল কবির বলেন, পাইকারি বাজারে মসলার দাম আগের মতোই আছে। দুই-একটি মসলার দাম বেড়েছে। সেগুলো আমদানি নিভর। সেই হিসেবে, খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা হচ্ছে ঈদের আগে অতিরিক্ত লাভকে কেন্দ্র করে। এই দাম আরও বাড়তেও পারে।
আরেক বিক্রিতা ইউনুস খান বলেন, সামনে ঈদুল আজহা। এই কারণে মসলার চাহিদা বেশি থাকে। ইতোমধ্যে ক্রেতারা মসলা কেনা শুরু করেছেন। সে কারণে মাংস রান্নার মসলা কিছুটা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে মসলার দাম কমার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে মাংস রান্নার মসলাগুলোর।
বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বতমানে ভারতীয় জিরা কেজিপ্রতি প্রায় ৬৮০ টাকা, শাহী জিরা কেজিপ্রতি এক হাজার ১০ টাকা থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা, মিষ্টি জিরা কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা, পাঁচফোড়ন কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, রাঁধুনি কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা, মেথি কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা, চিনাবাদাম কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা, কাজু বাদাম কেজিপ্রতি এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা, পেস্তা বাদাম কেজিপ্রতি দুই হাজার ৭৫০ টাকা, ত্রিফলা কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা, জয়ফল কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা, তেজপাতা কেজিপ্রতি ১২০ টাকা, সাদা গোলমরিচ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, গোলমরিচ কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা, ধনিয়া কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা, সরিষা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কিসমিস কেজিপ্রতি ৫২০ থেকে ৫৪০ টাকা, এলাচ কেজিপ্রতি তিন হাজার টাকা, কালো এলাচ কেজিপ্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা, লবঙ্গ কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪৫০ টাকা, জয়ত্রি কেজিপ্রতি দুই হাজার ৯০০ টাকা, পোস্তদানা কেজিপ্রতি এক হাজার ৮০০ টাকা, আলুবোখারা কেজিপ্রতি ৪৬০ টাকা, দারুচিনি কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা, খোলা হলুদের গুঁড়া কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা, খোলা মরিচের গুঁড়া কেজিপ্রতি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ভেদে মসলার দামের ভিন্নতা রয়েছে।