
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশে মামলা দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদেরকে সংযুক্ত করে একটি মহল অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন পরবর্তী বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেক অপচেষ্টা চলছে। সাম্প্রদায়িক হামলা, মামলা বাণিজ্য রাজধানীর উত্তরা গাজীপুর গাছা সহ সারাদেশে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদ চলছে। দেশে যেমন বৈষম্যের ঠাঁই নাই, তেমনি হয়রানির কোনো সুযোগ নাই বলে হুঁশিয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। এসব অপচেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা ভালো না হলে তাদের মুখোশ উন্মোচনের পাশাপাশি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তারা।এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দেশের কোথাও সাধারণ মানুষ মিথ্যা মামলায় হয়রানি স্বীকার যাতে না হয় দলের নেতাকর্মী কে সজাগ থাকার আহ্বান করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাশাসক সরকার আমাদের দলের নেতাকর্মী এবং দেশের মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। আমাদের দলের নেতাকর্মীর দ্বারা যাতে এ দেশের নাগরিক হয়রানি শিকার না হয়।
সমন্বয়করা বলেন, বর্তমান মামলাগুলোতে যে সব নিরাপরাধ ব্যক্তিকে যুক্ত করা হচ্ছে, মূলত দুটি কারণে তাদের যুক্ত করা হচ্ছে। একটি হলো ব্যক্তিগত শত্রুতা-আক্রোশ ও স্বার্থ। বর্তমানে হত্যা মামলাগুলোতে ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা নথিগুলো চেক করে দেখেছি, অধিকাংশ মানুষেরই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
অটোচালক মানিক মিয়া হত্যা মামলার উদাহারণ টেনে তারা বলেন, সেই হত্যা মামলায় ১১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ জনই নিরাপরাধ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, যাতে করে ওই মামলাটি সিআরও থেকে জিআরও-তে না যায়। সেই সঙ্গে বাদীর সঙ্গে কথা বলে এফিডেভিটের মাধ্যমে যারা নিরাপরাধ তাদের জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমন্বয়করা আরও বলেন, মামলায় এমন কিছু মানুষ আসামি হয়েছে, যারা চায়ের দোকান করে, বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক। অথচ তারা এসবে অভিযুক্ত নয়। এসব বিষয়ে সমাধানের জন্য মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যাতে করে কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে মামলার আসামি না হয়, হয়রানির শিকার না হয়।
সমন্বয়করা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এসব আইন সন্ত্রাসবাদ করছেন, আপনারা ভালো হয়ে যান, যাতে করে তৃতীয় কোনো সংবাদ সম্মেলন করে মুখোস উন্মোচন করতে না হয়। আপনাদের নাম উল্লেখ করে আপনাদের বিরুদ্ধে যাতে কিছু করতে না হয়। এরপরও কেউ এসবে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।