নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে আমাকে ঢাকা বা নোয়াখালী দেখা হলে বলে কিরে বালা আছতনি আমার প্রিয় নেতা শাহজাহান ভাই। অসংখ্য ছেলেমেয়েকে চাকুরী দিয়েছেন কারো কাছ থেকে কোন কানা পয়সাও নেন নাই। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন এখনো আছেন। যেকোনো
মানুষকে বুকে জোড়ে ধরে আলিঙ্গন করেন ।
এই নেতা মোঃ শাহজাহান ভাই
স্বাধীনতার ঘোষক ও সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত বিএনপি নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুল মালেক উকিল তথা আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত ২৭১ নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনকে বিএনপির ঘাঁটিতে রুপান্তরকরণের কারিগর তিনি। ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে এ আসনটি জাতীয় সংসদ এর শীর্ষ সাতটির অন্যতম। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৬,৭৮,৭৯৯। নোয়াখালী পৌরসভার ৯ “টি ওয়ার্ড, সদরের ১৩টি ইউনিয়ন এবং সুবর্ণচরের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনটি গঠিত। বৃহত্তর নোয়াখালীর (ফেনী ও লক্ষীপুরসহ) অন্য ১২টি আসনের ভোটার সংখ্যা এ আসনের প্রায় অর্ধেক।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সংস্থা ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত তথ্যের মাধ্যমে সাহসী, বিনয়ী, নির্লোভ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের অকুতোভয় সৈনিক মোঃ শাহজাহানকে মনোনীত করেন। নোয়াখালীতে বিএনপিকে জনগনের দৌড়গোড়ায় পৌঁছাতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ সিনিয়র নেতারা দায়িত্ব অর্পন করেন মোঃ শাহজাহান এর উপর। নোয়াখালীতে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে শতভাগ সফলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত কর্মী মোঃ শাহজাহান অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্রাসের মতো অনৈতিক কাজে পরিবারের কাউকে সম্পৃক্ত করেননি।
(১) ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত ৫ম সংসদ নির্বাচনে মালেক উকিলপুত্র গোলাম মহিউদ্দিন লাতুকে ৪০৭৮ ভোটে পরাজিত করে প্রথম নির্বাচিত হন।
(২) ১৯৯৬ সালের ১২জুন তারিখে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরবাটার এএইচএম খায়রুল আনম সেলিমকে ৮২১৯ ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
(৩) ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর তারিখে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম মহিউদ্দিন লাতুকে ২৮০৯৭ ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
(৪) ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ও বিজয়ী হন।
ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত মঈনুদ্দিন ফখরুদ্দীন ও সংস্কারবাদীদের অভিনব নির্বাচনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে ১২৭৫০ ভোটে জননেতা মোঃ শাহজাহানকে পরাজিত করে ফ্যাসিস্টদের হাতে দেশ তথা নোয়াখালীর এ গুরুত্বপূর্ণ আসনটি তুলে দেয়া হয়।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান এক মুহুর্তের জন্য ও দলের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেননি। দলের চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কিংবা স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ তথা বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের জিয়ার সৈনিকদের উজ্জীবিত করতে তৃনমুল সমন্বয়কের দায়িত্ব নিয়ে দেশব্যাপী শত সহস্র কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অসংখ্য মামলার আসামী এ নেতা কারাগারে গেলেন বহুবার। আশা ছাড়েননি, নিরাশ করেননি দলপাগল কর্মীদের।
নোয়াখালীর কৃতি সন্তান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এর মৃত্যুর পর বৃহত্তর নোয়াখালীতে দলের শীর্ষ নেতা হিসাবে মোঃ শাহজাহান এর ভুমিকা প্রত্যাশিত। দুর্ভাগ্যের বিষয়, নোয়াখালীর গর্ব এ মহান জাতীয় নেতা, তাঁর অনুসারী জেলার শীর্ষ নেতাদের ও দলকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ফ্যাসিস্ট সরকারের উচ্ছিষ্টভোগীরা বহু অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে বলে দলের নেতা, কর্মী সমর্থকরা মনে করে।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অন্যতম মোঃ শাহজাহান আগামীর সমৃদ্ধিশালী নোয়াখালী বিনির্মানে বিশেষ ভুমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করি। একজন সৎ, আদর্শবান রাজনৈতিক নেতার সফলতা ও নেক হায়াত কামনা করি। আমিন।