ঘটনার বিবরণঃ— গত ১৬/০২/২০২৪ইং তারিখ সেনবাগ থানাধীন ৫নং অজুর্নতলা ইউনিয়নের অন্তর্গত ইদিলপুর গ্রামের জনৈক ফাতেমার নতুন বাড়ী, বিগত ২২ বছর পূর্বে ১নং আসামী আমির হোসেন (৪৫) এর সাথে ফাতেমা খাতুন (৩৮) এর বিবাহ হয়। বিবাহের পর দাম্পত্য জীবনে ২ ছেলে এবং ১ মেয়ে জন্ম গ্রহন করে। সংসারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ০১নং আসামী আমির হোসেন প্রায়ই ফাতেমাকে মারধর করিত। ১নং আসামী আমির হোসেন এর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রায় ৬/৭ বছর পূর্বে ফাতেমা তার সন্তানদের নিয়ে ফাতেমার পিতার বাড়ীর পশ্চিম পাশে^র্ জমিতে বাড়ী নির্মান করিয়া বসবাস করিতেছে। এর পর থেকে এজাহার নামীয় ১নং আসামী মোঃ আমির হোসেন ও ২নং আসামী বেলাল হোসেনদ্বয় ফাতেমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া আসিতেছিল। অনুমান ২ বছর পূর্বে ১নং আসামী আমির হোসেন অন্যত্র বিয়ে করলে ফাতেমা পারিবারিক ভাবে আসামীদ্বয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং ফাতেমার বাড়ীতে আসতে নিষেধ করে। তারই ধারাবাহিকতায় আসামীদ্বয় ক্ষিপ্ত হইয়া ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫ টায় আসামীদ্বয় ও তাহাদের সাথে অজ্ঞাতনামা আসামীগন সহ হাতে দা, লাঠি সহ ফাতেমার বাড়ীতে আসিয়া উঠানে হাঁস, মুরগির খোয়ার ও ঘরের টিনের বেড়া এলোপাতাড়ি ভাবে কোপাইয়া ভাংচুর করিতে থাকিলে শব্দ পাইয়া ফাতেমা ঘরের দরজা খোলার সাথে সাথে আসামীদ্বয় ঘরে ঢুকে পরে। ১নং আসামী আমির হোসেনের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে ফাতেমাকে কোপাইতে থাকে। ফাতেমাকে রক্ষা করিতে ফাতেমার মেয়ে রাবেয়া (১৮) ও মা মাফিয়া খাতুন (৫৫) আগাইয়া আসিলে তাদেরকেও এলোপাতারি ভাবে কোপাইয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ২নং আসামী তার হাতে থাকা লাঠি দিয়া আঘাত করে। ঘটনার সময় মেয়ে রাবেয়া ও মা মাফিয়া খাতুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে আসামীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ফাতেমার ভাই মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম সহ ঘটনাস্থলে আসা লোকজন গুরুতর আহত ফাতেমা, রাবেয়া ও মাফিয়া খাতুনকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নোয়াখালীতে নিয়া যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার ফাতেমা ও মাফিয়া খাতুনকে উন্নতর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। মেয়ে রাবেয়াকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নোয়াখালীতে ভর্তি করে।
উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোঃ আমিরুল ইসলাম বাদী হইয়া অভিযোগ দায়ের করিলে সেনবাগ থানার মামলা নং—০৮. তারিখ—১৬/০২/২০২৪খ্রিঃ, ধারা— ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৪২৭/১০৯ পেনাল কোড রুজু হয়।
মাননীয় পুলিশ সুপার, নোয়াখালী জনাব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিপিএম, পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব নাজমুল হাসান রাজীব, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে, অফিসার ইনচার্জ সেনবাগ থানার নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ওমর ফারুক মিঞা সঙ্গীয় ফোর্সসহ তৎক্ষণিক ভাবে এজাহার নামীয় ০২নং আসামী মোঃ বেলাল (৪৮), পিতা— মৃত সফি উল্যাহ, সাং— অম্বরনগর,থানা—সোনাইমুড়ী, জেলা—নোয়াখালীকে ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এজাহার নামীয় ০১নং আসামীকে গুপ্ত চরের মাধ্যমে লক্ষীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত ছিল।
পরবতীর্তে ২১ ফেব্রুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এজাহার নামীয় ০১নং আসামী মোঃ আমির হোসেন এর অবস্থান নিশ্চিত হইয়া মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ওমর ফারুক মিঞা সঙ্গীয় অফিসার এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আশরাফুল ইসলাম দিপু ও ফোর্সসহ চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া থানাধীন চাক্তাই এলাকার হোটেল আল—সিরাজ এর সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় উক্ত হোটেলের ২য় তলায় রক্ষিত আসামীর ব্যবহৃত ব্যাগের ভিতর কাপড় দিয়া মোড়ানো ধারালো দা ও ছুরি উদ্ধার পূর্বক জব্দতালিকা মূলে জব্দ করে। অদ্য ২২/০২/২০২৪ ইং তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।