বুধবার বিকেলে জেলা শহরের মাইজদী কোর্ট স্টেশনে রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৪ মে থেকে রেলে দূরত্বভিত্তিক রেয়াত বাতিল কার্যকর করা হয়েছে। রেয়াতি ব্যবস্থার কারণে দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ছাড় পেয়ে থাকতেন যাত্রীরা। এ ব্যবস্থায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ছাড়ের সুবিধা না থাকলেও ১০১ থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্বের ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২০-৩০ শতাংশ রেয়াত ছিল।
১৯৯২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে দূরত্বভিত্তিক ও সেকশনভিত্তিক রেয়াতি দেওয়া হয়। গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাৎ আলী রেলের ভাড়া বাড়ছে বলে জানিয়েছিলেন।
সেসময় ভাড়া বৃদ্ধির গুঞ্জন ওঠার পর রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন রেলের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। রেলমন্ত্রী বলেন, যখন রেয়াতি দেওয়া হয়েছিল, তখন তো রেলে প্যাসেঞ্জার চড়তো না। তখন রেয়াত দিয়ে যাত্রীদের আকর্ষণ করা হত। এখন তো ট্রেনে প্যাসেঞ্জার ওঠে, পর্যাপ্ত যাত্রী ওঠে ট্রেনে।
রেলপথ ঢাকা থেকে দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে লাকসাম প্রবেশ করলে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বর্তমান দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার থেকে ৯০ কিলোমিার হ্রাস পাবে। অর্থাৎ এ রুটের দৈর্ঘ্য হবে ২৩১ কিলোমিটার। মানে এ অঞ্চলের যাত্রীদের বাড়তি ৯০ কিলোমিটারের ভাড়া দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ফেনীর যাত্রীরা ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়দেবপুর ঘুরে ঢাকা শহরে যেতে হয়। এতে বাড়তি সময় গেলেও বাড়তি ভাড়া দিতে হত না। এখন রেলওয়ে সৃষ্ট ঘোরাপথের ৯০ কিলোমিটারের ভাড়ার দায় মেটাতে হবে ফেনীর যাত্রীদের। অথচ রাষ্ট্রের চোখে ভাড়া বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নোয়াখালী জেলা কমিটির সদস্য শান্ত ভুইয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান। বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল ভুঁইয়া, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ইয়াসির জামান, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আহমেদ ইসহাক, গণকমিটির সংগঠক মামুনুর রশিদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নোয়াখালীর সংগঠক মো: শামসুদ্দিন শিপন পূর্ণ শেখ শামশির।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নফিউল ইসলাম।