ছবি সংগ্রহ ♥

। দ্বিতীয় তলায় ভবনের ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, বাইরে অনেক জোড়া জুতো। আর ভেতরে দেখা যায় পরিষ্কার-ঝকঝকে। সবাই জুতো বাইরে রেখে সেখানে অবস্থান করছেন। কেউ এসেছেন শুনে এগিয়ে এলেন ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট। তাঁর কার্যালয় কক্ষে ডেকে নেন এই প্রতিবেদককে। হালকা আলাপচারিতার মধ্যে সেখানে হাজির হন নোয়াখালীর ২৫০ বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ হাসান। আশ্রয় নেওয়া অসুস্থ শিশুসহ বন্যার্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে তিনি সেখানে এসেছেন। প্রতিটি কক্ষ ঘুরে ঘুরে অসুস্থ ব্যক্তিদের সেবা দিতে দেখা যায় তাঁকে।
কেন্দ্রটিতে আশ্রয় নেওয়া সৌদিপ্রবাসী তাজুল ইসলাম (৩২) জানান, অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বাড়িতে কোমর পর্যন্ত পানি।
আর ঘরের ভেতর পানির গভীরতা হাঁটুসমান। সাত দিন আগে স্ত্রী, সন্তান, মাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে উঠেছেন এই আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখানে তাঁরা ভালো আছেন, তবে বন্যার বীভৎসতা তাড়িয়ে বেড়ায় সারাক্ষণ। এর আগে কখনো তাঁরা এমন বন্যা দেখেননি।
বাড়ির মতোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বন্যার্তরা
এ কেন্দ্রের মোট ছয়টি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর, কামদেবপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের ৩০টি পরিবারের অন্তত ১৫০ জন সদস্য। পরিচ্ছন্ন কক্ষগুলোতে প্রতিটি পরিবারকে বেঞ্চ দিয়ে আলাদা আলাদা জায়গা (নির্দিষ্ট সীমানা) করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের মতো থাকছেন আপন বাড়িঘরের মতোই। সেখানে নারী-শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ যেমন আছেন, তেমনি আছেন গর্ভবতী নারীরাও। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু আছে ১৫ জন। তাদের খাবারদাবারে যাতে কোনো ধরনের অযত্ন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর আছে কর্তৃপক্ষের।
তিন বছর বয়সী অসুস্থ শিশু ছেলে আবদুর রহমানকে নিয়ে এক সপ্তাহ আগে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন কামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রীতি আক্তার (৩২)। তিনি বলেন, তাঁদের ঘরে হাঁটুসমান পানি। সেখানে যাওয়ার পর আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। চিকিৎসার পর ছেলেটার অসুস্থতাও (জ্বর) কিছুটা কমেছে। তাঁর মতে, সেখানে থাকা–খাওয়ারসহ যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তা বাড়ির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং ক্ষেত্রবিশেষে অনেক বেশি।
অসুস্থ এক শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক। গতকাল বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে,
এক বছর বয়সী ছেলে ইমাম হোসেন কয়েক দিন ধরে পাতলা পায়খানা ও জ্বরে ভুগছে। চিকিৎসক নাহিদ হাসান শিশুটিকে পরীক্ষা করে দেখলেন। মা ফারিয়া আক্তার প্রিয়ার (২৫) সঙ্গে কথা বলে লিখে দিলেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র; দিলেন কিছু পরামর্শও। সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রতিটি শিশুর মায়ের কাছে গিয়ে তিনি জানতে চাইলেন, কারও কোনো অসুস্থতা আছে কি না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপত্র দিলেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কিছু ওষুধের ব্যবস্থাও করে দিতে দেখাগেছে এই তরুণ চিকিৎসককে।
চিকিৎসক নাহিদ হাসান যখন শিশুদের দেখছিলেন, তখন পাশ থেকে মো. রিফাত নামের এক তরুণ এগিয়ে এলেন। তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী সানজিদা আক্তারের (১৮) কিছু শারীরিক সমস্যার কথা জানাচ্ছিলেন। চিকিৎসক ওই গর্ভবতীকেও কিছু পরামর্শ দিলেন ও সেগুলো মেনে চলার গুরুত্ব বুঝিয়ে বললেন। এ সময় আশ্রিত মানুষদের দেখতে আসেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার আবু সায়েম। তিনি অসুস্থ নারী ও শিশুদের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও কিছু ওষুধ কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।