নোয়াখালী ৮টি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতে থাকার ঠাঁই নেই ।

নোয়াখালী ৮ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। এখনো জেলার ৮টি উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নের ২৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ১৩০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। নতুন করে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হচ্ছেন।
কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে মানুষ উঠার জায়গা নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ও এমপির নেতৃত্বে বেগমগঞ্জ উপজেলায় গত এক সপ্তাহ থেকে তিনি নেতাকর্মী সাথে নিয়ে কোথাও নৌকা কোথাও পিকাপে করে খাদ্য, ও ত্রান সামগ্রী বিতরন করেন।
আজ ২৮ আগস্ট বুধবা রাতের জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অপরদিকে, জেলার দুর্গম অনেক এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে জানান বাসিন্দারা। ত্রাণ পেতে হাহাকার করছেন বন্যার্তরা।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যা কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। আর জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক আরজুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও জেলায় আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বেগমগঞ্জের বাসিন্দা মাইন উদিন বলেন, বন্যার শুরু বিদ্যুৎবিহীন জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে বেশি কষ্টে আছে। কিন্তু চলাচলের পথ দুর্গম হওয়ায় আমরা ত্রাণ পাচ্ছি না। প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় না থাকায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
কাদিরপুর আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই আশ্রয়েকেন্দ্রে ছোট একটি কক্ষে ৬টি পরিবার গাদাগাদি করে থাকছে। এর মধ্যে অনেকে নতুন করে আসছে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার জন্য। কিন্তু থাকার জায়গা নেই।
বেগমগঞ্জের হেসেন নামে এক যুবক জানান, বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। বসুরহাট বাজারে বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য রিকশা নিয়ে ঘুরছি। এ পনিস্থিতি বাসা ভাড়া পাওয়াও কঠিন।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, জেলায় বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ১২৪টি ও বেসরাকারি ১৬টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, বন্যার্তদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।