সাহিদ আহমেদ টুটুল।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার পাটকেল বাড়ী বি,পি,বি স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার এর নিকট থেকে জোর পূর্বক সাক্ষর নিয়ে চাকুরীচ্যুত করেছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত গৌড় চন্দ্র হালদারের ছেলে উৎপল কিশোর হালদার জানান যে গত ১৩ই আগষ্ট ২০১৩ তারিখ উপজেলার পাটকেল বাড়ী বি,পি,বি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় তৎকালীন ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার কে বেআইনী ভাবে পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই ৪ জন লোক নিয়োগ করতে বলে, এবং রেজুলেশন লিখে নিয়োগ সঠিক হয়েছে বলে দেখাতে বলে। প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার তৎকালীন ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি গৌর চন্দ্র মন্ডলের দূর্নীতি মূলক নিয়োগ দিতে রাজি না হওয়ায় সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং বিভিন্ন অনিয়ম দেখিয়ে গত ১৫ই নভেম্বর ২০১৪ তারিখ প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করেন। এবং গত ২১শে ডিসেম্বর ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার কে তার বাসায় ডেকে নিয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে জোর করে চাকুরির পদত্যাগ পত্র নেয়। উক্ত ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে, মামলা নং ১৯/২০১৫। মামলা চলার পর গত ১৩ই নভেম্বর ২০২৩ তারিখ আদালতে প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার এর পক্ষে রায় দেয় এবং পুনরায় স্কুলে যোগাদান করার আদেশ দেন। তখন আবার ওই সময়ের ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস সাবেক সভাপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল কে স্কুলে যোগদান করতে দেয় নাই। এবং এর পর সেই সময়ের ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস প্রধান শিক্ষকের পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।আপিল মামলার বাদী অশোক বিশ্বাস এর সাথে সাবেক প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার যোগাযোগ করলে এবং আপিল মামলা তুলে আনতে বললে ১০ লাখ টাকা দাবী করেন। এসব ঘটনা সাবেক প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার জানান। তিনি আরও জানান এতদিন চাকুরী থেকে দূরে থাকায় সে অসহায় হয়ে পড়েছেন,এবং তার চাকুরী ফেরত পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ ব্যাপারে জানার জন্য মুকসুদপুর নির্বাহী অফিসার মোঃ আজিজুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন যেহেতু মামলাটি আপিল হয়েছে আপিল নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যোগদানের কোনো সুযোগ নাই। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ও জানান আপিল মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করা যাবে না। ম্যানেজিং কমেটির সাবেক সভাপতি গৌর চন্দ্র মন্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ঢাকাতে থাকি আমার সাক্ষাৎকার নিতে হলে ঢাকাতে আসেন। এবং পরবর্তী ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি উজানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সভাপতি অশোক বিশ্বাস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ও জানান বরখাস্ত কৃত প্রধান শিক্ষক উৎপল কিশোর হালদার এর ব্যাপারে সে কিছুই জানেনা। তবে রায় নিয়ে আসলে মামলা আপিল হবে বলে যোগদান করতে দেওয়া হয় নাই। উৎপল কিশোর হালদার জানান বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিপত্র ২০০৯ এর ধারা ৮ এর উপধারা ৩ এ স্পষ্ট উল্লেখ্য আছে যে অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাগণ সভাপতি হতে পারবেন। কিন্তু ২০১০ সালের ৭ই আগষ্ট তিনি মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হন এবং ১/৮/২০১৪ তারিখ হতে তিনি ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক পদে পদন্নোতি পান। এ ব্যাপারে জানার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমৃত মন্ডল এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বর্তমান স্কুলের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আমরা এখন তার পরামর্শ ক্রমে স্কুল পরিচালনা করবো।