‘অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ, বিকশিত নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে প্রতিবন্ধী জনগণ’ এই প্রতিপাদ্যে ময়মনসিংহে ৩৩তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২৬তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২৪ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে দিবসটি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মুফিদুল আলম। পরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সমাজসেবা অফিসার মির্জা নিজুয়ারা এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোঃ মুফিদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডাঃ নজরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ,জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী-পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদেরই আপনজন ও প্রতিবেশী। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতিনিয়তই পিছিয়ে পড়ছে বা বাদ পড়ছে। যার ফলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অনেকটা ধীর হচ্ছে। এই বিশ্ব বিনির্মাণে প্রতিটি ব্যক্তির অবদান রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবদানও কম নয়। তাই এই উন্নয়নের যাত্রায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেন।
আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার ও ১০ হাজার করে ১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে চেক বিতরণ করা হয়। এর আগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র ৫টি হুইল চেয়ার, ২টি ট্রাই সাইকেল, বিএনএসবি ৮ টি হুইল চেয়ার, ১টি কৃত্রিম পা, পিসিসি ৩টি ষ্ট্যন্ডিং ফ্রেম, ২টি লংলেট ব্রেস, ২টি নি ক্যাপ, ২টি ডায়নামিক ব্রেস ও ১টি হ্যান্ড স্পিন্ট বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতার প্রসার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং জাতিসংঘ কর্তৃক এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ, বিকশিত নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে প্রতিবন্ধী জনগণ।’ বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দের একটি দিন।