1. news@dailyupokulbarta.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
শ্রমিক দল নেতা শাকিল হত্যা হুমকির দিয়ে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট চালাচ্ছে শাকিলের সমর্থকরা | দৈনিক উপকূল বার্তা
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হাতিয়াতে ১৬০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার মুকসুদপুর পাইলট স্কুলের বহিষ্কৃত শিক্ষক অমৃতলাল মজুমদারের কান্ড । অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তুলতুলের পারিবারিক জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি সিলেকশন বিএনপি যেভাবে করতেছে এবার, তা এপ্রিশিয়েবল। কয়েকটি স্তরে ফিল্টারে ত্যাগী এবং দলের জন্য ডেডিকেটেড, জেনুইন পলিটিক্যাল কর্মীদের ছেঁকে আলাদা করা হচ্ছে নোয়াখালীতে ১৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেলসহ গ্রেপ্তার ৪ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নোয়াখালীর ৫ নেত্রী। নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২২শত লিটার তেল লুটের অভিযোগ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩

শ্রমিক দল নেতা শাকিল হত্যা হুমকির দিয়ে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট চালাচ্ছে শাকিলের সমর্থকরা

মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২২৪ বার

 

শ্রমিক নেতা শাকিল মুন্সী হত্যার ঘটনায় হুমকি দিয়ে মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুলের নেতৃত্বে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে কামরুল হাসানের নেতৃত্বে রিনা বেগমের বিল্ডিং ভাংচুর করে। সেসময় সবার বাড়ি আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসে। পরে শনিবার সকালে হামলাকারীদের দেয়া হুমকিরও বাস্তবায়ন করে। সকালে কামরুল দলবল নিয়ে নতুন শহর এলাকার প্রতিপক্ষদের ৮/১০টি বাড়িতে লুটপাট চালায় ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। শ্রমিক নেতা শাকিল হত্যার পর থেকে এই এলাকা প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পরে। এমনকি বেশীরভাগ নারীরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই সুযোগে ফাঁকা বাড়ি পেয়ে সহযে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা পারছে বলে দাবি ভূক্তভোগীদের।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদার সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান সমর্থিত ছিল। অন্যদিকে ১,২,৩ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর সাইদা সালমা ও তার স্বামী লাবলু হাওলাদার ছিলেন বিএনপি সমর্থক। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত গ্রæপিং চলে আসছিল। আওয়ামীলীগ সরকাদের পতনের পরে স্থানীয় প্রভাব টিকিয়ে রাখতে আক্তার হাওলাদারের লোকজন বিএনপিতে যোগ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাদের সহযোগীতায় আক্তার হাওলাদারে ভাই ও যুবলীগের নেতা লিটন হাওলাদারকে শ্রকি দলে যোগ দিয়ে সদর উপজেলার সভাপতি হয়। অন্যদিকে লাভলু হাওলাদারে সমর্থক নিহত শাকিল মুন্সীও নিজেকে উপজেলার সভাপতি ঘোষণা করে। এ নিয়ে লিটন হাওলাদার ও শাকিল মুন্সীর বিরোধ তীব্র আকার ধারন করে। এই বিরোধের জেরে সম্প্রতি দুই গ্রæপের সংঘর্ষে শাকিল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করে লিটন হাওলাদারের সমর্থকরা। এই ঘটনার পর লিটন গ্রæপের লোকজন নতুন শহর এলাকার ছেড়ে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে শাকিল মুন্সী সমর্থকরা ১৫/২০টা বসত ঘর লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরবর্তীতে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আছে। পরে ৬৭ জনের নাম উল্লেখ ও আরো অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। শাকিল হত্যার ঘটনার মামলা হলে বেশ কয়েকজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। আর এজাহারভূক্ত আসামীসহ লিটন সমর্থক পুরুষ শূন্য হয়ে পরে পুরে এলাকা। এমনকি এলাকার বেশীরভাগ নারীরাও এই এলাকা থেকে সরে যায়। এই সুযোগে গত শুক্রবার গভীর রাতে একটি বাড়ি ভাংচুর করে এবং বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের হুমকি দিয়ে যায়। শনিবার সকালেই সেই হুমকি কার্যকর করে হামলাকারীরা বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। গভীর রাতে ভাংচর করা বাড়িসহ মালেক হাওলাদার, হাফেজ হাওলাদার, রাজিব হাওলাদার, আরিফ হাওলাদার, জসিম হাওলাদার, আলমগীর হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বসতবাড়িতে লুটপাট করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এই হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগীরা। এ অগ্নিকান্ড ও লুটপাটের ঘটনায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৭০/৮০ জন অজ্ঞাত দেখিয়ে ভূক্তভোগী আম্বিয়া বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
ক্ষতিগ্রস্থ রিনা বেগমের বোন লিমা বেগম বলেন, আমার বোন জামাই ঢাকা সিদ্দিশ্বরী কলেজে চাকরি করে। বোন বা দুলাভাই কেউই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না। আর কখনো মারামারি ঝগড়াও করে নাই। তারপর তাদের দুইজনকেই হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। সেই মামলায় আমার বোন জেলে রয়েছে।
দুলাভাইয়ের ফুফাতো বোন সালমা বেগমের সাথে জায়গা নিয়ে ঝামেলা আছে এজন্য তাদের নাম দিছে। ওই সালমার স্বামী মোকিম হাওলাদার, তার ছেলে কামরুল হাওলাদার, দেবর মেরাজ হাওলাদার দাবি করে বিল্ডিং এর ভিতর জায়গা পাবে। এর জন্য বাড়ি ফাকা থাকার সুযোগে ভাংচুর করে হুমকি দিয়েছিল আগুন দিয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দেবে। এখন তাই করলো।
ক্ষতিগ্রস্ত আলমাস হাওলাদারের ভাইয়ের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম বলেন, আমাদের উপর যে অন্যায় অত্যাচার হইতেছে প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই। আমরা কিছু বলতে গেলে এখানে থাকতে পারবো না। আমাদের উপর হামলা হবে।
জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা দ্রæত আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এছাড়া নতুন মাদারীপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© 2023, All rights reserved.
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট