বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন একটি ভয়াবহ ও গৌরবময় অধ্যায় — যেখানে শাসকের নিষ্ঠুরতা আর জনগণের প্রতিরোধ মুখোমুখি হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষগুলো সেই সময় রাজপথে নেমেছিল ন্যায়ের দাবিতে, সম্মানের দাবিতে।১৫ বছরের দমন-নিপীড়নের ভার বইতে বইতে যখন আর সহ্য হচ্ছিল না, তখনই জন্ম নেয় এই প্রতিরোধ। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, নারী-শিশু নির্যাতনের অসংখ্য বেদনাদায়ক কাহিনী এ আন্দোলনের পেছনের প্রেক্ষাপট।মাত্র ৩৬ দিনে ১৩৬টি শিশু — চার বছরের আব্দুল আহাদ, ছয় বছরের রিতা গোপ — এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে, যা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। ১৫০০-এর বেশি প্রাণ, ৩০ হাজার আহত মানুষের আর্তনাদ আজো বাতাসে বাজে।এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৭৫ এর ৭ই নভেম্বরের গণজাগরণ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী বিপ্লবের ধারাবাহিক অংশ। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধা, ওয়াসিম এবং অসংখ্য নামহীন বীর শহীদের রক্তে লেখা হয়েছে এই ইতিহাস।আজ আমাদের সামনে এক ঐতিহাসিক সুযোগ — একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। এইবার যেন আর ভুল না হয়। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হোক ন্যায়ের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। গণতন্ত্র জিন্দাবাদ। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।