নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচরে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার সকালে তার বাড়ির পাশে পেয়ারা গাছে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়। যড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দ্বন্দ্ব ভাগাভাগি দেখা দিয়েছে। হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, মাহফুজ ছাত্রলীগের সভাপতি। তবে তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন দাবি করছেন তার বন্ধুমহল ছাত্রদল নেতারা।
সরজমিন জানা যায়, সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় গত শনিবার সকালে গাছে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় ২২ বছর এক যুবকের। ভোরে স্বজনরা প্রথমে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, নিহত যুবক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মাহফুজ সক্রিয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। জয় গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলার পাঁয়তারা করছেন।
নিহতের পিতা ছায়েদুল হক জানান, আমার ছেলের মোবাইলে টিকটকে অশ্লীল মেসেজে পাঠাতো প্রবাসী সোহাগের স্ত্রী। শুক্রবার সকালে সোহাগের মা’কে বিষয়গুলো জানাই। পরে বিকাল ৪টায় সোহাগের মা, বউ, বোন জামাই পাশের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়। তারা বলে, ‘পরের দিন আমার ছেলের লাশ পাঠাবে। তিন মাস পর তার ছেলে আসবে। এসে আমাদের পরিবারের সবাইকে সাফ করবে’। তিনি বলেন, আমার ছেলে রাজমিস্ত্রী। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছেলে খেয়ে বাজারে যায়। পরে রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়িতে না এলে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজি পরে ভাতিজা এসে বলে, মাহফুজকে ঘরের পাশে পেয়ারা গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমি গিয়ে দেখি মহিলাদের মেঙির কাপড় দিয়ে পেয়ারা গাছের ডালের সঙ্গে দাঁড়া করে ঝুলিয়ে
রেখেছে। তার মা ধরতেই ছেলে বুকে পড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এটা আত্মহত্যা না। আমার ছেলেকে হুমকি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে থানা থেকে পুলিশের এসআই জয়নাল আবেদিন আসেন। আমি অশিক্ষিত মানুষ। তারা লিখে আমার হাত থেকে টিপসই নিয়েছে। এসআই আবার এসে সোহাগের বাড়িতে দুই ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে মোবাইল চেক করেছে। তারা টিকটক ও মেসেজগুলো ডিলিট করেছে। আমার ছেলের মোবাইল পুলিশ নিয়ে গেছে। আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই। সোহাগের মা অভিযুক্ত নূরজাহান বেগম জানান, মাহফুজ তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। টিকটক নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল কিনা তিনি জানেন না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি দাবি করা রাজনৈতিক পরিচয় ভুয়া দাবি নিহতের সহকর্মীদের। মাহফুজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানান, আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চান তারা। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন জানান, ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিলে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, তাদের কথা শুনলে হবে নাকি? থানায় হত্যা মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা করেন বলে জানান- মাহফুজের পিতা।